Nikosh Font and Converter

কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহার করতে গেলে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শুরুতে কম্পিউটারে বাংলা বর্ণমালার নিজস্ব কোন ক্ষেত্র ছিল না। ইংরেজী বা রোমান হরফের জন্য তৈরী ASCII কোডের উপর ভিত্তি করে সফটওয়ার নির্মাতাগণ বাংলা ফন্ট তৈরী করেছেন। ফলে একাধিক পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে এবং কোন অভিন্ন মান অনুসরণ করা সঙ্গত কারণেই সম্ভব ছিল না। এতে সৃষ্টি হয়েছে portability-র সমস্যার, যার ফলে এক কম্পিউটারে তৈরি ডকুমেন্ট বা ফাইল অন্য কম্পিউটারে একই সফটওয়ার না থাকলে পড়া যায় না, তাছাড়া এডিট বা সম্পাদনা করতেও সমস্যা হয়। বিশেষ করে ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়ারে তৈরি বাংলা ডকুমেন্ট সম্পাদনা করা তো বিভীষিকার মত। অন্য দিকে, ফন্টের সমস্যার জন্য বাংলা ডকুমেন্ট আদান প্রদান করা কঠিন হবে এ পরিস্থিতি কারও কাম্য নয়। কম্পিউটারে পৃথিবীর সব ভাষায় লেখার উপযোগী মান তৈরী করতে ইউনিকোড প্রবর্তিত হয়েছে। তাতে বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ মান ব্যবহার করে বর্ণিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অনেকে স্বীয় উদ্যোগে ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা ফন্ট তৈরি করেছেন, সেগুলো ইন্টারনেটে ওপেন সোর্স সফটওয়ার হিসেবে পাওয়া যায়।
ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিশাল একটি ডাটাবেজ তৈরি হয়েছে, যাতে ৮ কোটির অধিক লোকের তথ্য আছে। এর অধিকাংশ তথ্যই আছে বাংলায়। কাজেই এ ডাটাবেজের চাহিদা মেটানোর জন্য উপযুক্ত ফন্টের প্রয়োজন ছিল। এভাবে নিজস্ব সমস্যার সমাধানের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা ফন্ট তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যার ফলাফল ‘নিকস’ ফন্ট পরিবারের পাঁচটি ফন্ট। ‘নিকস’ ফন্ট ওপেন সোর্স। বিনামূল্যে সরকারী বেসরকারী যে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি তা ব্যবহার করতে পারেন।
এতদিন ধরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সফটওয়ার ব্যবহার করে অনেক বাংলা ডকুমেন্ট তৈরী হয়েছে, যেগুলো অব্যাহতভাবে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা দরকার হতে পারে। সরকারি ডকুমেন্টগুলো ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে গেলেও ইউনিকোডে রূপান্তরের আবশ্যকতা রয়েছে। তাছাড়া, পূর্ণাঙ্গভাবে ইউনিকোড ভিত্তিক ফন্ট না হওয়া পর্যন্ত মিশ্র ASCII এবং Unicode নির্ভর ডকুমেন্ট তৈরী হতে পারে এবং এগুলো ব্যবহারে সমস্যা থেকে যাবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিকস কনর্ভাটার তৈরী করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেটে বেশ কিছু কনভার্টার পাওয়া যায়। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নিকস কনভার্টার অত্যন্ত দ্রুত ASCII কোড দিয়ে তৈরী সকল বাংলা ডকুমেন্টকে প্রায় নির্ভুলভাবে ইউনিকোডে রূপান্তর করতে পারে।
নিকস ফন্টে লেখার জন্য এমন একটি কী বোর্ড ব্যবহার করতে হবে যা ইউনিকোড সমর্থন করে। ইন্টারনেটে অনেক বাংলা কী বোর্ড (যেমন, অভ্র, শাব্দিক) বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এগুলো ডাউনলোড করে ব্যবহার করা সম্ভব।
ইন্টারনেটের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। ই-সরকার প্রচলন এখন সময়ের দাবী। ইউনিকোড ভিত্তিক ফন্ট ব্যতীত ই-সরকার প্রচলন সম্ভব নয়। ওয়েব পেজগুলো যাতে সারা বিশ্বের যে কোন জায়গায় অবস্থানকারী যে কোন বাংলাভাষাভাষী পড়তে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। তাই বাংলায় ওয়েব পেজ তৈরি করার ক্ষেত্রে ইউনিকোড ফন্টই একমাত্র সমাধান। ইউনিকোডের আরো কিছু সুবিধাও রয়েছে। যেমন, ব্রাউজার থেকে সার্চ অপশন ব্যবহার করে শব্দ বা শব্দগুচ্ছে খুঁজে বের করা সম্ভব। পিডিএফ ফাইলে বাংলা থাকলেও তা সার্চ করা যায় না। ইউনিকোডভিত্তিক বাংলা ফন্টের ক্ষেত্রেও তাই। তবে ভবিষ্যতে পিডিএফ ফাইলেও এরূপ সার্চ সুবিধা সংযোজিত হবে বলে আশা করা যায়। উল্লেখ্য, ইউনিকোড ফন্ট দিয়ে পিডিএফ ফাইল তৈরিতে কোন অসুবিধা নেই। তবে সেগুলো এক্সট্রাক্ট করা যায় না। ভবিষ্যতে, এডবি এ সুবিধা সংযোজন করলে, নিশ্চয়ই যাবে।
সব শেষে একটি কথা বলা দরকার। এই ফন্ট তৈরির কাজে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, তা অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করা দরকার। এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য শীঘ্র এ ওয়েব পাতায় প্রকাশ করা হবে। যারা এ বিষয়ে আগ্রহী তাদের কাজে লাগতে পারে।
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
সচিব
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
১১ মে, ২০০৯।
Azadbd